অনেকেই বলে থাকেন ইমাম মাহদীর আবির্ভাবের সময় সন্নিকটে, যদি তাই হয় তবে ইমাম মাহদীর সাহায্যকারী বাহিনী কোনটি?

#প্রশ্ন – অনেকেই বলে থাকেন ইমাম মাহদীর আবির্ভাবের সময় সন্নিকটে, যদি তাই হয় তবে
ইমাম মাহদীর সাহায্যকারী বাহিনী কোনটি?
[নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক]

#উত্তর

عن جابر بن عبد الله قال: سمعت النبي يقول:” لا تزال طائفة من أمتي يقاتلون على الحق ظاهرين إلى يوم القيامة، قال: فينزل عيسى بن مريم فيقول أميرهم تعال صلِّ لنا، فيقول لا، إن بعضكم على بعض أمراء تكرمة الله هذه الأمة “.
জাবির বিন আব্দিল্লাহ থেকে বর্ণীত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, আমার উম্মতের একটি দল হকের উপর থেকে বিজয়ী অবস্থায় কিয়ামত পর্যন্ত যুদ্ধ করতে থাকবে। তিনি বলেনঃ অতঃপর ঈসা ইবনে মারয়াম আলিহিস সালাম নেমে আসবেন। তখন তাঁদের আমির বলবেন, আসুন আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করুন। তিনি বলবেন, না! আপনারা একে অন্যর আমির, এটা আল্লাহ্‌ তায়ালার পক্ষ থেকে এই উম্মতের প্রতি সম্মান। (সহীহ মুসলিম)

শিক্ষাঃ
#এক– কিতাল ও মুকাতিল জিহাদ ও মুজাহিদ কিয়ামত পর্যন্ত চলমান ও বিদ্যমান থাকবে। কোন ভাবেই তা বন্ধ হবে না। না যালিমের যুলুম তা রুখতে পারবে না কোন মুনসিফ শাসকের ইনসাফের ফলে তা থেমে যাবে।

#দুই– একটি জামাত হকের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। আর তাদের মানসূস যে সিফাত হাদীসের মধ্যে বর্ণীত হয়েছে তা হচ্ছে কিতাল। কিতাল তাদের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য। হক জামাত সন্ধানীদের জন্য ইনশাআল্লাহ্‌ এই হাদিসটি পথের দিশা দেবে।

তবে একটা বিষয় স্পষ্ট ভাবে বুঝতে হবে, কিতাল করলেই এই জামাতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে হাদীসে এমনটি বলা হয়নি, বরং হক জামাতটির বৈশিষ্ট্য বলা হয়েছে, তাদের মাঝে কিতাল থাকবে। জামাতের মধ্যে কিতাল থাকবে তা নিশ্চিত। কিন্তু ‘সকল কিতাল কারি এই জামাতেরে অন্তর্ভুক্ত’ হাদীস কোন ভাবেই এটা প্রমাণ করে না।

#তিন– এই হাদীস প্রমাণ করে, ইমাম মাহদী এই কাফেলার মধ্যে আসবেন ও তিনি তার সময় এই তয়েফার আমির হবেন। কারণ হাদীসের মধ্যে ইমাম মাহদীর ব্যাপারে যে শব্দ বলা হচ্ছে- (فيقول أميرهم) তাঁদের আমির বলবেন। ‘তাঁদের’ সর্বনাম দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে পূর্বে যে তয়েফার কথা বলা হয়েছে সেই তয়েফার আমির। আর তা তো এমন এক তয়েফা, যা সর্বদা বিদ্যমান থাকবে। পূর্বে ছিল, এখন আছে, কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। সুতরাং ইমাম মাহদীর কাফেলা এখনও বিদ্যমান আছে, তিনি এই কাফেলার ইনশাআল্লাহ্‌ এক সময় আমির হবেন। আর ঈসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম আসমান থেকে নেমে এই কাফেরলার সাথেই থাকবেন।

হে মুসলিম একটু ভাবুন!
যারা আমরা, কোন পার্থক্য না করে সকল মুজাহিদের বিরোধিতা করছি। বর্তমান জিহাদকে ফাসাদ বলছি। অথবা বলছি বর্তমান বিশ্বে হকের উপর থেকে জিহাদকারি কোন জামাত বিদ্যমান নেই। তারা যে সুস্পষ্ট ভ্রান্তির মধ্যে আছি এ ব্যাপারে কি কোন সন্দেহের অবকাশ আছে?!!

আপনি বুঝে বা না বুঝে আল্লাহ্‌ তায়ালার একটি হক ইবাদাতের বিরোধিতা করছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম আল্লাহ্‌ তায়ালার যে বান্দাদের ব্যাপারে, হকের উপর থাকার গ্যারান্টি দিয়েছেন আপনি তাঁদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। কাল হাউজে কাউছারে কীভাবে আপনি রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে দাঁড়াবেন?!!!

আপনি ইমাম মাহদির কাফেলার বিরোধিতা করছেন, আর অপেক্ষা করছেন তিনি এলে তার সাথে মিলে জিহাদ করবেন। শুনে রাখুন! আল্লাহ্‌ তায়ালার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ দলীল যারা উপেক্ষা করে, ছুঁড়ে ফেলে, মুখ ঘুরিয়ে নেয়, মুজেজা বা কারামাত তাঁদের কোন কাজেই আসে না বরং তাদের গোমরাহিকে বৃদ্ধি করে। যদিও চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়। পাথর টুকরো থেকে উটনী বের হয়। লাঠি ভয়ংকর সাপ হয়।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s